আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা –আবনা-: ফিলিপাইনের নাগরিক আহলে বাইত (আ.) এর ঐ দুই অনুসারী জুমআর নামায শেষে বাড়ি ফেরার পথে তাকফিরি সন্ত্রাসীদের হামলায় শহীদ হন।
‘খোমেনি গুরু’ এবং ‘নাতালিয়া গুরু’ নামক ঐ দুই যুবক গত শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) ফিলিপাইনের মারাউই (MARAWI) শহরের ‘কারবালা’ মসজিদে জুমআর নামায আদায় শেষে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফেরার পথে সশস্ত্র ওয়াহাবি সন্ত্রাসীদের হামলার মুখে পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। শহরের পাম্পিং স্ট্রীটে হামলার মুখে পড়েন ঐ দুই শিয়া মুসলিম। ঘটনার কয়েক ঘন্টা পর তাকফিরি গ্রুপ ‘আবু সিয়াফ’ এ হামলার দায় স্বীকার করে। শিয়াদের বিরুদ্ধে হামলা বৃদ্ধি করার কথা ঘোষণা করে ‘মারউই শহরে’র সকল শিয়াকে হত্যা করার হুমকি দিয়েছে সন্ত্রাসী এ গ্রুপটি।

প্রসঙ্গত, মারউই শহরের শতকরা ৯৯ ভাগেরও বেশী লোক মুসলিম। দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশের মত অনেক শিয়া ও সুন্নি পরিবার ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান, ইমাম খোমেনি (রহ.)-এর প্রতি বিশেষ ভালবাসা’র কারণে তারা নিজেদের সন্তানদের জন্য ‘খোমেনি’, ‘বেহেশতি’, ‘মুতাহহারি’ ইত্যাদি নাম নির্বাচন করে থাকেন।
আবু সিয়াফ গ্রুপ
‘আবু সিয়াফ’ ওয়াহাবি চিন্তধারা পোষণকারী একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ। এটি ১৯৯১ সালে ফিলিপাইনে গঠিত হয়। ২০০৪ সালে ফিলিপাইনের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার দায় স্বীকার করেছিল গ্রুপটি। ঐ হামলায় ফিলিপাইনের ১ শতাধিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছিলেন।
তৎপরতার শুরু থেকে গ্রুপের সদস্যরা বোমা বিস্ফোরণ, অপহরণ, গুপ্তহত্যা, চাঁদাবাজী ইত্যাদি অপকর্মে জড়িত। কিছু কিছু প্রতিবেদনে এটাও উঠে এসেছে যে, তারা ধর্ষন, বলৎকার, বিবাহে বাধ্য করা এবং মাদক দ্রব্য পাচারের মত অপকর্মের সাথেও জড়িত।
ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ায় খেলাফত প্রতিষ্ঠার কথা ঘোষণা করে দায়েশের পতাকার সাথে ছবি প্রকাশ করেছে আবু সিয়াফ। যা সন্ত্রাসী গোষ্ঠি দায়েশের (আইএসআইএল) সাথে তাদের বাইয়াত ও একাত্মতার ঘোষণার কথা প্রমাণ করে।#